বোন আমার, তোমার সাথে আমার দেখা হয়নি কখনও। কথাও হয়নি কোনোদিন। তবু কেন তোমাকে নিয়ে চিন্তিত, জানতে চাও?
আমি হিজাব। আমি মুসলিম। আমি মুসলিম হিসেবে আমার কিছু দায়বদ্ধতা আছে। আমার রবের একটা আয়াতের কারণে আমি তোমার কাছে দায়বদ্ধ। আমার রব বলেছেন —
এ আয়াতের কারণে তোমার কল্যাণকামনা আমার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে। আমি নিজের জন্যে যা ভালো মনে করি, তা তোমার জন্যও করি। আমি যেমন রবের করুণা পাওয়ার আশা রাখি, তেমনি তোমার জন্যেও তা কামনা করি। আমি চাই না, বৈশ্বিক বেণিয়াদের খপ্পরে পড়ে তুমি ভোগ্যপণ্য হয়ে যাও। তোমাকে বাজারি বস্তু হিসেবে দেখতে আমি মোটেও প্রস্তুত নই। আমি তোমার কল্যাণ চাই। কেবল দুনিয়াবি কল্যাণ নয়, পরকালীন কল্যাণও। দু-জাহানে তুমিই সফল হও, সেটাই আমার চাওয়া। সে চাওয়া থেকেই অন্তরে জন্মেছে দায়বদ্ধতা। আর সে দায়বদ্ধতা থেকেই দু-চার কথা বলছি তোমার জন্য। হয়তো কথাগুলো অখাদ্য মনে হতে পারে, তবুও একটু শোনো কষ্ট করে। ঠকবে না আশা করি ইনশাআল্লাহ।
প্রথমেই তোমাকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছি। না, তোমার সালাত সাওমের জন্যে না। তুমি ভালো রান্না করতে পারো, সে জন্যেও না। অভিনন্দন জানাচ্ছি তোমার আগ্রহের জন্যে। চরম জাহিলিয়াতের মধ্যে থেকেও তুমি যে হিজাব সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়েছ, সেজন্য সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য তুমি। এটা হিদায়াতের পথে বড়োসড়ো একটা পদক্ষেপ।
তুমি যে পথে যাত্রা শুরু করেছ, সে পথে আরও অগ্রসর হও। হিজাবের উদ্দেশ্য বুঝে বুঝে, এর উপকারিতাগুলো জেনে জেনে সামনের দিকে এগোবে, এটাই কাম্য। এতে করে তোমার যাত্রাটা আরও সচল হবে। দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগোতে পারবে সম্মুখ-পানে। বেলাশেষে পৌঁছে যাবে জান্নাতের অনাবিল ভুবনে।
আজকালকার অধিকাংশ নারীই হিজাবকে পোশাকের অংশ ভাবে না। একে চতুর্থ বিষয়ের মতো মনে করে। ওরা ভাবে, হিজাব পরা ভালো। তবে না পরলেও অসুবিধা নেই। একদল তো আর-একটু এগিয়ে গিয়ে বলে: ' মন যদি ফ্রেশ থাকে, তবে পোশাকে কী আসে যায়!' বেপর্দা মেয়েকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ' কবে থেকে হিজাব পরা শুরু করবে?' উত্তর দেয়, 'যখন হিজাব পরার মতো উপযুক্ত ঈমান হবে।'
আসলে তারা হিজাবকে অনাবশ্যকীয় পোশাক মনে করে। তারা ভাবে, এটা না পরেও ভালো থাকা যায়। এটা না পরেও বাইরে বেরোনো যায়। বিষয়টা সত্যিই দুঃখজনক। এটা আসলে অজ্ঞতার নিদর্শন। হিজাবের প্রকৃত হাকীকাত না জানার কারণেই ওরা এমনটা বলে থাকে। ওদের কথা নাহয় আপাতত বাদ দিলাম। কিন্তু স্টাইলিশ হিজাবিদের কথা বাদ দিই কীভাবে! মুসলিম-সমাজে ছড়িয়ে-পড়া ভয়ঙ্কর ফিতনা এইটি। কত নারী যে এই ফিতনার জালে আঁটকে গেছে, তার হিসাব কেবল আল্লাহই জানেন। ফ্যাশন হিজাবধারীরা দেধারসে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। জিন্সের প্যান্ট আর গেঞ্জির সাথে মাথায় ত্যানার মতো কিছু একটা জড়িয়ে কেতাদুরস্ত ভাবছে নিজেকে। এমনকি মাথায় ওড়না জড়িয়ে ছেলেবন্ধুর সাথে আনন্দভ্রমণে যাওয়া মেয়ের সংখ্যা নেহাত কম না। অনেকে তো আবার জনসমক্ষে যুবকদের সাথে কোলাকুলি, ঘেঁষাঘেঁষি বা লজ্জাজনক অবস্থায় বসে থাকে বোরখা পরেই। এর চেয়ে জঘন্য কাজ অনেক নারী করে। জেনো, সেইটা কী? বোরখা পরেই হোলির দিন রঙ ছিটানোর উৎসব পালন করে। পুজোর দিন ঢোলের তালে তালে নৃত্য করে মুশরিকদের সাথে। বিজয় দশমীর নৌকায় চড়ে প্রতিমা বিসর্জন দেয়। কাফিরদের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় সেলফি উঠায়! এর চেয়ে লজ্জাজনক কাজ আর কি হতে পারে!
আচ্ছা, হিজাব কী নিতান্তই ফ্যাশন?
ঈমান-আকীদার সাথে হিজাবের কি কোনোই সম্পর্ক নেই?
হিজাব কি মুসলিম উম্মাহর জন্যে অবশ্যপালনীয় বিধান না?
আস্তে আস্তে এগুলোর উত্তর আমরা জানার চেষ্টা করব। তবে এর আগে জানব, 'হিজাব' বলতে মূলত কী বোঝায়। মাথা ঢাকার উপকরণের নামই কি হিজাব? নাকি হিজাবের বিধান অন্য কোনো কিছুকে নির্দেশ করে?
#পর্ব-১


No comments:
Post a Comment