Wednesday, 7 December 2022

ঈমান ভঙ্গের ১০টি কারণ


 ঈমান ভঙ্গের ১০ টি কারণ।

_________________________________

মানুষ ওযু ভংগের কারন জানে, মানুষ সালাত ভংগের কারন জানে, কিন্তু মানুষ ঈমান ভংগের কারন ঠিকমত জানেনা, অথচ সালাত সিয়াম ওযুর মত ঈমান ভংগের কারনও আছে।

 

যদি কারো ঈমান না থাকে বা ঈমান আনার পর ঠিক না থাকে, তাহলে সে জান্নাতে যেতে পারবেনা। আমল সতই সুন্দর হোক এবং বেশী থাকুক।

সহীহ মুসলিম হাঃ ৯৮/


অথচ মানুষ সেই ঈমান সম্পর্কেই মুর্খ এবং সেই ঈমান ঠিক রাখার কোনো চেষ্টা সাধনা নেই, 

অথচ ঈমান ঠিক না থাকলে কোনো আমল আল্লাহর কাছে কবুল হয়না।


আসুন জেনে নেই ঈমান ভংগের কারনগুলো কি.???


১/ আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা :-


"নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সঙ্গে অংশীদার করা ক্ষমা করেন না। তা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন; এবং যে কেউ আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে সে এক মহাপাপ করে।"

 [সুরা:- আন নিসা ,আয়াত  :- ৪৮]


কেউ আল্লাহর সঙ্গে শিরক করলে অবশ্যই আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম। আর জালিমদের জন্য

 কোনো সাহায্যকারী নেই। 

[সুরা:- আল মায়িদা, আয়াত : -৭২]

 রাসূল (সা). বলেন: -


কবিরা গুনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনা হলো আল্লাহর সঙ্গে শিরিক করা।

[সহীহ বুখারি হাদিস নং :- ৬৮৭১,সহীহ মুসলিম হাদিস নং:- ৮৮]

_________________________________


২/ আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যে কাউকে মধ্যস্থতাকারী বানানো :-


"তারা আল্লাহকে ব্যতীত যার ইবাদাত করে তা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। তারা বলে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী। বল, তোমরা কি আল্লাহকে আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবীর এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ, যা তিনি জানেন না? তিনি মহান, পবিত্র এবং তারা যাকে শরিক করে তা হতে তিনি ঊর্ধ্বে।"

 [সুরা:- ইউনুস,আয়াত :-১৮]


জেনে রাখ, অবিমিশ্র আনুগত্য আল্লাহরই প্রাপ্য। যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবকরুপে গ্রহণ করে তারা বলে, ‘আমরা তো এদের পূজা এজন্যই করি যে, ইহারা আমাদের আল্লাহর সান্নিধ্যে নিয়ে যাবে।’ তারা যে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করছে আল্লাহ তার ফয়সালা করে দিবেন। যে মিথ্যাবাদী ও কাফির আল্লাহ তাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

[সুরা:-আয্  যুমার,আয়াত :-  ৩]


☆মুর্তি পূজা, কবর পূজা, মাজার পূজা, পীর পূজা ইত্যাদি করলে ইমান নষ্ট হয়ে যাবে ☆


রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাম বলেন: -


যে যুবগ এবং যুবতী যৌবনে  আল্লাহর  ইবাদাতে লিপ্ত থাকবে আল্লাহ তা 'য়ালা তাকে আরসে ছায়া দিবেন ।

[সহীহ বুখারি হাদিস নং:- ৬৮০৫]

_____________________________________


৩/ মুশরিক-কাফিরদের, কাফির মনে না করা :-


এমন কাফির, যার কুফরির ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ একমত। সেটা আসলি কাফির হতে পারে—যেমন ইহুদি, খৃস্টান ও হিন্দু সম্প্রদায়—আবার মুরতাদ, যিনদিকও হতে পারে, যেমন প্রকাশ্যে আল্লাহ, রাসুল বা দীনের কোনো অকাট্য ব্যাপার নিয়ে কটূক্তিকারী; যাদের কুফরির ব্যাপারে হকপন্থি আলিমগণ একমত।

আল্লাহ বলেন: -


হে মুমিনগণ  ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে

 বন্ধু রুপে গ্রহণ করো না, তারা পরস্পর বন্ধু,আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে নিশ্চয়ই সে তাদের মধ্যে গণ্য হবে;নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যাচারী কওমকে সু পথ প্রদর্শন করেন না।

[সুরা: -মায়িদাহ,আয়াত:-৫১]

__________________________________


৪/ রাসূল  (সা.)’র ফয়সালার তুলনায় অন্য কারও ফয়সালাকে উত্তম মনে করা :-


আপনি কি তাদের দেখেননি, যারা দাবি করে যে, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে, আমরা তার ওপর ঈমান এনেছি। তারা বিচার-ফয়সালা নিয়ে যেতে চায় তাগুতের কাছে, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা তাকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদের প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়। 

[সুরা:-আন নিসা,আয়াত : ৬০]

___________________________________


৫/ রাসূল  মুহাম্মাদ (সা.) আনীত কোনো বিধানকে 

অপছন্দ করা :-


অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক বলে মনে না করে। এরপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোনো রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা সন্তুষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে। [সুরা:- নিসা, আয়াত : ৬৫]

___________________________________


৬/ দীনের কোনো বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা :-


তুমি তাদের প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম। বলো, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসুলকে বিদ্রুপ করছিলে?  তোমরা অযুহাত দেয়ার চেষ্টা করো না। তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরি করেছ। [সুরা:- তাওবা, আয়াত:- ৬৫-৬৬]

___________________________________


৭/ জাদু করা :- সুলাইমান কুফরি করেনি, কুফরি তো করেছিল শয়তানরাই। তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত । 

[ সুরা :-বাকারা, আ : ১০২]

রাসূল বলেন: - 

যে লোক গণকের কাছে নিকট গেল এবং তাকে কোন ব্যপারে প্রশ্ন করল প্রশ্নকারীর চল্লিশ রাত্রি তার কোন সালাত গ্রহণযোগ্য হবে না।

[সহীহ মুসলিম: - ৫৭১৪]

_________________________________


৮/ মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা :- হে মুমিনগণ! তোমাদের 

পিতা ও ভাইও যদি ঈমানের বিপরীতে কুফরিকে বেছে নেয়, তবে তাদের অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না। তোমাদের মধ্যে যারা তাদের অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। [সুরা:- তাওবা, আয়াত:- ২৩]

___________________________________


৯/ কাউকে দীন-শরিয়তের ঊর্ধ্বে মনে করা :-


আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করলাম।  [সুরা:- মায়িদা, আয়াত :- ৩]

___________________________________


১০/ দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া :-


যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের নিদর্শনাবলি দ্বারা উপদিষ্ট হয়েও তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় তার অপেক্ষা অধিক অপরাধী আর কে? আমি অবশ্যই অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে থাকি।  [ সুরা:- সাজদা,আয়াত :-  ২২ ]

__________________________________

No comments:

Post a Comment