Search This Blog

Monday, 5 December 2022

পর্দা না করার শাস্তি সম্পর্কে হাদীস

পর্দা না করার শাস্তি সম্পর্কে হাদীস

#পর্দা না করার শাস্তি সম্পর্কিত হাদিস”

*************************************

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“দু’ শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামী হবেঃ-


১/ যারা গরুর লেজের মত একধার মোটা এবং একধার চিকন লাঠি দ্বারা মানুষকে মারধুর করবে, 

২/ সেইসব নারী, যারা পোষাক পরার পরও উলংগ, অর্থাৎ যারা পাতলা টাইটফিট ছোটো খাটো পোশাক পরিধান করে বেপর্দা হয়ে শরির এবং তার উচু নিচু দেখিয়ে চলে, এবং যারা মাথায় উটের কুজের মত উচু করে চুলের খোপা বাধে, এবং যারা পর পুরুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে এবং নিজেরাও পর পুরুষের দিকে আকৃষ্ট হয়, তারা জান্নাতে যাবেনা এবং জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না, যা বহুদূর থেকে পাওয়া যায়।''

[সহীহ মুসলিম হাদিস ২১২৭,

মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৮৬৬৫]

.

(২)

রাসুল (সাঃ) বলেছেন,

“তিন শ্রেণীর মানুষের উপর জান্নাত হারাম অর্থাৎ এই তিন শ্রেণীর মানুষ কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

প্রথম শ্রেণী হলোঃ- যারা কোনো প্রকার নেশাদারদ্রব্য পান বা গ্রহণ করে।

দ্বিতীয় শ্রেণী হলোঃ- যে বা যারা পিতা-মাতার অবাধ্য, এই শ্রেণীভূক্ত মানুষরাও জান্নাতে 

যাবে না।


তৃতীয় শ্রেণী হলোঃ- দাইউস।

অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি, যে তার পরিবারে পর্দা প্রথা চালু রাখেনি।

পরিবারের সদ্যসের মাঝে বেপর্দা ছিলো, বেহায়াপনা ছিলো, কিন্তু সে বাধা প্রদান করেনি।

পরিবারের কর্তা হিসেবে বেপর্দা-বেহায়াপনা বন্ধ না করার কারনে সে এই শাস্তি পাবে।”

(মুসনাদে আহমাদ ২/৬৯)

.

(৩)

আর সুগন্ধি আকর্ষণের এমন একটি মাধ্যম যা দৃষ্টি-অবনত ব্যাক্তিকেও আকৃষ্ট করে।

সুতরাং এ বিষয়ে কতটা সতর্ক থাকা দরকার তা নিজেরাই ভেবে দেখি।

হাদীসে এসেছে, ‘‘প্রত্যেক চোখ যিনা করে।

আর কোন নারী যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে কোন পুরুষের মজলিশের পাশ দিয়ে যায়,

তাহলে সে নারী নযরের যিনা বা সরাসরি যিনাকারি হিসেবে গণ্য হবে।”

(জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭৮৬)

.

(৪)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে মিলিত হলে, নিঃসন্দেহে তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।

(অর্থাৎ তখন শয়তান তাদের মনে কুমন্ত্রণা দেয়)।”

(জামে তিরমিযী হাদীস ১১৭১)

.

(৫)

রাসুল (সঃ) ইরশাদ করেন,

“খবরদার তোমরা বেগানা স্ত্রীলোকের ঘরে প্রবেশ করো না।

জনৈক সাহাবী জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সঃ), স্বামীর ভাইদের (অর্থাৎ ভাসুর, দেবর, বেয়াই ইত্যাদি) সম্পর্কে কি বলেন?

তখন রাসুল (সঃ) ইরশাদ করেন, তারা তো স্ত্রীর জন্য মৃত্যুর সমতুল্য। (তিরমিজিঃ ১/২২০)


অর্থাৎ মানুষ যেমন মৃত্যু থেকে বেচে থাকার চেষ্টা করে, ঠিক তেমনি দেবর ভাশুর বিয়াই ইত্যাদি থেকে বেচে থাকার চেষ্টা করতে হবে, নাহলে সে মরেই যাবে, অর্থাৎ সে বিপদে পড়বেই, তার সতিত্ব মান ইজ্জত সব হারিয়ে ফেলবে। যার বাস্তবতা সমাজের দিকে দৃষ্টি দিলেই দেখা যায়। 

.

(৬)

উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা (রাঃ) বর্ণনা করেন, “আমি এবং মাইমুনা (রাঃ) রাসুল (সঃ) এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় অন্ধ সাহাবী ইবনে উম্মে মাখতুম (রাঃ) সেখানে আসতে লাগলেন। তখন রাসুল (সাঃ) বললেন, তোমরা তার থেকে পর্দা করো, আড়ালে চলে যাও। আমি বললাম ইয়া রাসুলুল্লাহ তিনি তো অন্ধ,

তিনি তো আমাদের দেখতে পাচ্ছেন না।

তখন রাসুল (সাঃ) বল্লেন, তোমরা তো অন্ধ নয়,?

তোমরা তো তাকে দেখতে পাচ্ছো।

(আবু দাউদ ২/৫৬৮) এই হাদিসের ব্যাপারে আলেমরা জয়ীফ বলেছেন।

তবে নারীরা প্রোয়োজনে পর পুরুষকে দেখতে পারে, কিন্তু পুরুষ দেখতে পারেনা। / সহীহ বোখারী /

.

(৭)

রাসুল (সঃ) বলেন, “নারী হল গোপনীয় জিনিস। অর্থাৎ তাকে পর পুরুষ থেকে ঢেকে রাখতে হয়, যখন সে ঘর থেকে বেপর্দা হয়ে বের হয়, তখন শয়তান তার দিকে দৃষ্টি উচু করে তাকায়। অর্থাৎ শয়তান তখন যিনা করার জন্য শুপারিস করে  

(তিরমিযি ১/২২২)

.

(৮)

রাসুল (সঃ) বলেন, “আমার পরে নারী ফিতনা (পরীক্ষা) পুরুষদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ করবে।”

(বুখারি ও মুসলিম)

.

(৯)

ভ্রু প্লাক করা ও পরচুলা পরা হারাম!!

বর্তমান সময়ের ফ্যাশন, হে বোনেরা সাবধান, অনেকেই ভ্রু প্লাক করে থাকেন এবং নানা রঙের নানা ধরনের পরচুলাও ব্যাবহার করে থাকেন।

অথচ যারা এমন করেন, রাসুল (সাঃ) তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন।

কাজেই বোনেরা আল্লাহর ভয়ে এই ধরনের গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকুন।


* আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর অভিশাপ হোক সেই সব নারীদের উপর, যারা শরিরে উল্কি উৎকীর্ণ করে এবং যারা করায়, এবং অভিসাপ সেইসব নারীদের উপর, যারা ভ্রু চেঁছে সরু (প্লাক) করে, যারা সুন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।' জনৈক মহিলা এ ব্যাপারে তার (ইবনে মাসউদের) প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন, 'আমি কি তাকে অভিসপ্ত করব না, যাকে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) অভিসপ্ত করেছেন এবং তা আল্লাহর কিতাবে আছে?

আল্লাহ বলেছেন, "রাসুল যে বিধান তোমাদেরকে দিয়েছেন তা গ্রহন কর, আর যা থেকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাক।”

(সূরা হাশরঃ ৭)


* ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, “রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে মহিলা পরচুলা লাগিয়ে দেয় এবং যে পরচুলা লাগাতে বলে, আর যে মহিলা অঙ্গ প্রত্যঙ্গে উল্কি উৎকীর্ণ করে ও উল্কি উৎকীর্ণ করতে বলে, তাদেরকে অভিশাপ করেছেন।”

[সহীহ বুখারির ৫৫০৭ থেকে ৫৫২৪ নং হাদিস দেখুন] পরচুলা বলে তাকে, যা মাথায় অন্যের বা বারতি চুল লাগানো হয়।

.

(১০)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “নারীরা হচ্ছে চাদর, এবং যদি সে ঘড়ের বাইরে যায়, তবে শয়তান খুশি হয় (তাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে বলে)।

সে (নারী) আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে না, যতটা সে ঘড়ে থেকে করতে পারতো।”

[ইবনে হিব্বান ও ইবনে আবী খুযাইমাহ, আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, সিলসিলা আস সহীহাহ ২৬৮৮]


এবং তিনি নবী (সাঃ) নারীদেরকে মসজিদে সালাত আদায়ের ব্যাপারে বলেছিলেন যে, “তাদের জন্য ঘড়ই উত্তম। / আবু দাউদ ৫৬৭ /

তবে নারীরা মসজিদে যেতে চাইলে রাসুল (সঃ) বাধা দিতে নিষেদ করেছেন। 

.

(১১)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আমি পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বড় আর কোন ফিতনাহ রেখে যাচ্ছিনা।

আর, বনী ইসরাইলের প্রথম ফিতনাই ছিলো নারী। সুতরাং লোকদের উচিত তাদের পরিবারকে ফিতনাহ এবং ফিতনাহর উপকরণ থেকে দুরে রাখা।”

[ফতোয়ায়ে আল-মার'আহ আল মুসলিমাহ ২/৯৮১]

.

(১২)

আবু হুরায়ররা (রাদিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "মহান আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি যে নারী ঈমান রাখে, তার মাহরামের সঙ্গ ছাড়া একাকিনী এক দিন এক রাতের দূরের পথে সফর করা বৈধ নয়।’’ (মাহরাম হচ্ছে তারা, যাদের সাথে চিরদনের জন্য বিবাহ হারাম, এবং যাদের সামনে পুরো শরির ঢেকে পর্দা করতে হয়না) 

[সহীহ বুখারীঃ হাদীস ১০৮৮, সহীহ মুসলিমঃ ১৩৩৯, জামে তিরমিযীঃ হাদীস ১০৭০, সুনানে আবু দাউদঃ হাদীস ১৭২৩, ইবনে মাজাহঃ হাদীস ২৮৯৯, মুসনাদে আহমদঃ হাদীস ৭১৮১, ৭৩৬৬, ৮২৮৪, ৮৩৫৯, ৯১৮৫, ৯৩৭৪, ৯৮৪৮, ১০০২৯, ১০১৯৭, মুওয়াত্তা মালিকঃ হাদীস ১৮৩৩]

.

ফিক্বাহবিদদের সর্বসম্মত ঐকমত্য এই যে, যে কোন যুগে, টেকনোলজির পরম উৎকর্ষতার সময়েও এই দুরত্ব ৪৮ মাইল/৮০ বা ৮৩ কিলোমিটার।

এই একই দুরত্ব অতিক্রম করার পরে একজন মুসাফির হিসেবে গন্য হবেন।


পর্দা না করার সাস্তি।

""""""/ বিস্তারিত উপরে /"""""""

No comments:

Post a Comment