SAYEED KAYES
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় দ্বীনি ভাই এবং বোনেরা।আপনাকে স্বাগম। ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে সাথেই থাকি।
Search This Blog
Wednesday, 6 September 2023
Thursday, 8 December 2022
রাতের ফজিলপুর্ণ কিছু আমল
Wednesday, 7 December 2022
ঈমান ভঙ্গের ১০টি কারণ
ঈমান ভঙ্গের ১০ টি কারণ।
মানুষ ওযু ভংগের কারন জানে, মানুষ সালাত ভংগের কারন জানে, কিন্তু মানুষ ঈমান ভংগের কারন ঠিকমত জানেনা, অথচ সালাত সিয়াম ওযুর মত ঈমান ভংগের কারনও আছে।
যদি কারো ঈমান না থাকে বা ঈমান আনার পর ঠিক না থাকে, তাহলে সে জান্নাতে যেতে পারবেনা। আমল সতই সুন্দর হোক এবং বেশী থাকুক।
সহীহ মুসলিম হাঃ ৯৮/
অথচ মানুষ সেই ঈমান সম্পর্কেই মুর্খ এবং সেই ঈমান ঠিক রাখার কোনো চেষ্টা সাধনা নেই,
অথচ ঈমান ঠিক না থাকলে কোনো আমল আল্লাহর কাছে কবুল হয়না।
আসুন জেনে নেই ঈমান ভংগের কারনগুলো কি.???
১/ আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা :-
"নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সঙ্গে অংশীদার করা ক্ষমা করেন না। তা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন; এবং যে কেউ আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে সে এক মহাপাপ করে।"
[সুরা:- আন নিসা ,আয়াত :- ৪৮]
কেউ আল্লাহর সঙ্গে শিরক করলে অবশ্যই আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম। আর জালিমদের জন্য
কোনো সাহায্যকারী নেই।
[সুরা:- আল মায়িদা, আয়াত : -৭২]
রাসূল (সা). বলেন: -
কবিরা গুনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনা হলো আল্লাহর সঙ্গে শিরিক করা।
[সহীহ বুখারি হাদিস নং :- ৬৮৭১,সহীহ মুসলিম হাদিস নং:- ৮৮]
_________________________________
২/ আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যে কাউকে মধ্যস্থতাকারী বানানো :-
"তারা আল্লাহকে ব্যতীত যার ইবাদাত করে তা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। তারা বলে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী। বল, তোমরা কি আল্লাহকে আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবীর এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ, যা তিনি জানেন না? তিনি মহান, পবিত্র এবং তারা যাকে শরিক করে তা হতে তিনি ঊর্ধ্বে।"
[সুরা:- ইউনুস,আয়াত :-১৮]
জেনে রাখ, অবিমিশ্র আনুগত্য আল্লাহরই প্রাপ্য। যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবকরুপে গ্রহণ করে তারা বলে, ‘আমরা তো এদের পূজা এজন্যই করি যে, ইহারা আমাদের আল্লাহর সান্নিধ্যে নিয়ে যাবে।’ তারা যে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করছে আল্লাহ তার ফয়সালা করে দিবেন। যে মিথ্যাবাদী ও কাফির আল্লাহ তাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
[সুরা:-আয্ যুমার,আয়াত :- ৩]
☆মুর্তি পূজা, কবর পূজা, মাজার পূজা, পীর পূজা ইত্যাদি করলে ইমান নষ্ট হয়ে যাবে ☆
রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাম বলেন: -
যে যুবগ এবং যুবতী যৌবনে আল্লাহর ইবাদাতে লিপ্ত থাকবে আল্লাহ তা 'য়ালা তাকে আরসে ছায়া দিবেন ।
[সহীহ বুখারি হাদিস নং:- ৬৮০৫]
_____________________________________
৩/ মুশরিক-কাফিরদের, কাফির মনে না করা :-
এমন কাফির, যার কুফরির ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ একমত। সেটা আসলি কাফির হতে পারে—যেমন ইহুদি, খৃস্টান ও হিন্দু সম্প্রদায়—আবার মুরতাদ, যিনদিকও হতে পারে, যেমন প্রকাশ্যে আল্লাহ, রাসুল বা দীনের কোনো অকাট্য ব্যাপার নিয়ে কটূক্তিকারী; যাদের কুফরির ব্যাপারে হকপন্থি আলিমগণ একমত।
আল্লাহ বলেন: -
হে মুমিনগণ ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে
বন্ধু রুপে গ্রহণ করো না, তারা পরস্পর বন্ধু,আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে নিশ্চয়ই সে তাদের মধ্যে গণ্য হবে;নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যাচারী কওমকে সু পথ প্রদর্শন করেন না।
[সুরা: -মায়িদাহ,আয়াত:-৫১]
__________________________________
৪/ রাসূল (সা.)’র ফয়সালার তুলনায় অন্য কারও ফয়সালাকে উত্তম মনে করা :-
আপনি কি তাদের দেখেননি, যারা দাবি করে যে, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে, আমরা তার ওপর ঈমান এনেছি। তারা বিচার-ফয়সালা নিয়ে যেতে চায় তাগুতের কাছে, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা তাকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদের প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়।
[সুরা:-আন নিসা,আয়াত : ৬০]
___________________________________
৫/ রাসূল মুহাম্মাদ (সা.) আনীত কোনো বিধানকে
অপছন্দ করা :-
অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক বলে মনে না করে। এরপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোনো রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা সন্তুষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে। [সুরা:- নিসা, আয়াত : ৬৫]
___________________________________
৬/ দীনের কোনো বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা :-
তুমি তাদের প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম। বলো, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসুলকে বিদ্রুপ করছিলে? তোমরা অযুহাত দেয়ার চেষ্টা করো না। তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরি করেছ। [সুরা:- তাওবা, আয়াত:- ৬৫-৬৬]
___________________________________
৭/ জাদু করা :- সুলাইমান কুফরি করেনি, কুফরি তো করেছিল শয়তানরাই। তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত ।
[ সুরা :-বাকারা, আ : ১০২]
রাসূল বলেন: -
যে লোক গণকের কাছে নিকট গেল এবং তাকে কোন ব্যপারে প্রশ্ন করল প্রশ্নকারীর চল্লিশ রাত্রি তার কোন সালাত গ্রহণযোগ্য হবে না।
[সহীহ মুসলিম: - ৫৭১৪]
_________________________________
৮/ মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা :- হে মুমিনগণ! তোমাদের
পিতা ও ভাইও যদি ঈমানের বিপরীতে কুফরিকে বেছে নেয়, তবে তাদের অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না। তোমাদের মধ্যে যারা তাদের অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। [সুরা:- তাওবা, আয়াত:- ২৩]
___________________________________
৯/ কাউকে দীন-শরিয়তের ঊর্ধ্বে মনে করা :-
আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করলাম। [সুরা:- মায়িদা, আয়াত :- ৩]
___________________________________
১০/ দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া :-
যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের নিদর্শনাবলি দ্বারা উপদিষ্ট হয়েও তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় তার অপেক্ষা অধিক অপরাধী আর কে? আমি অবশ্যই অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে থাকি। [ সুরা:- সাজদা,আয়াত :- ২২ ]
__________________________________
Tuesday, 6 December 2022
কল্যাণকামী চিরসাথী (হিজাব আমার পরিচয়-পর্বঃ০১)
বোন আমার, তোমার সাথে আমার দেখা হয়নি কখনও। কথাও হয়নি কোনোদিন। তবু কেন তোমাকে নিয়ে চিন্তিত, জানতে চাও?
আমি হিজাব। আমি মুসলিম। আমি মুসলিম হিসেবে আমার কিছু দায়বদ্ধতা আছে। আমার রবের একটা আয়াতের কারণে আমি তোমার কাছে দায়বদ্ধ। আমার রব বলেছেন —
এ আয়াতের কারণে তোমার কল্যাণকামনা আমার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে। আমি নিজের জন্যে যা ভালো মনে করি, তা তোমার জন্যও করি। আমি যেমন রবের করুণা পাওয়ার আশা রাখি, তেমনি তোমার জন্যেও তা কামনা করি। আমি চাই না, বৈশ্বিক বেণিয়াদের খপ্পরে পড়ে তুমি ভোগ্যপণ্য হয়ে যাও। তোমাকে বাজারি বস্তু হিসেবে দেখতে আমি মোটেও প্রস্তুত নই। আমি তোমার কল্যাণ চাই। কেবল দুনিয়াবি কল্যাণ নয়, পরকালীন কল্যাণও। দু-জাহানে তুমিই সফল হও, সেটাই আমার চাওয়া। সে চাওয়া থেকেই অন্তরে জন্মেছে দায়বদ্ধতা। আর সে দায়বদ্ধতা থেকেই দু-চার কথা বলছি তোমার জন্য। হয়তো কথাগুলো অখাদ্য মনে হতে পারে, তবুও একটু শোনো কষ্ট করে। ঠকবে না আশা করি ইনশাআল্লাহ।
প্রথমেই তোমাকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছি। না, তোমার সালাত সাওমের জন্যে না। তুমি ভালো রান্না করতে পারো, সে জন্যেও না। অভিনন্দন জানাচ্ছি তোমার আগ্রহের জন্যে। চরম জাহিলিয়াতের মধ্যে থেকেও তুমি যে হিজাব সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়েছ, সেজন্য সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য তুমি। এটা হিদায়াতের পথে বড়োসড়ো একটা পদক্ষেপ।
তুমি যে পথে যাত্রা শুরু করেছ, সে পথে আরও অগ্রসর হও। হিজাবের উদ্দেশ্য বুঝে বুঝে, এর উপকারিতাগুলো জেনে জেনে সামনের দিকে এগোবে, এটাই কাম্য। এতে করে তোমার যাত্রাটা আরও সচল হবে। দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগোতে পারবে সম্মুখ-পানে। বেলাশেষে পৌঁছে যাবে জান্নাতের অনাবিল ভুবনে।
আজকালকার অধিকাংশ নারীই হিজাবকে পোশাকের অংশ ভাবে না। একে চতুর্থ বিষয়ের মতো মনে করে। ওরা ভাবে, হিজাব পরা ভালো। তবে না পরলেও অসুবিধা নেই। একদল তো আর-একটু এগিয়ে গিয়ে বলে: ' মন যদি ফ্রেশ থাকে, তবে পোশাকে কী আসে যায়!' বেপর্দা মেয়েকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ' কবে থেকে হিজাব পরা শুরু করবে?' উত্তর দেয়, 'যখন হিজাব পরার মতো উপযুক্ত ঈমান হবে।'
আসলে তারা হিজাবকে অনাবশ্যকীয় পোশাক মনে করে। তারা ভাবে, এটা না পরেও ভালো থাকা যায়। এটা না পরেও বাইরে বেরোনো যায়। বিষয়টা সত্যিই দুঃখজনক। এটা আসলে অজ্ঞতার নিদর্শন। হিজাবের প্রকৃত হাকীকাত না জানার কারণেই ওরা এমনটা বলে থাকে। ওদের কথা নাহয় আপাতত বাদ দিলাম। কিন্তু স্টাইলিশ হিজাবিদের কথা বাদ দিই কীভাবে! মুসলিম-সমাজে ছড়িয়ে-পড়া ভয়ঙ্কর ফিতনা এইটি। কত নারী যে এই ফিতনার জালে আঁটকে গেছে, তার হিসাব কেবল আল্লাহই জানেন। ফ্যাশন হিজাবধারীরা দেধারসে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। জিন্সের প্যান্ট আর গেঞ্জির সাথে মাথায় ত্যানার মতো কিছু একটা জড়িয়ে কেতাদুরস্ত ভাবছে নিজেকে। এমনকি মাথায় ওড়না জড়িয়ে ছেলেবন্ধুর সাথে আনন্দভ্রমণে যাওয়া মেয়ের সংখ্যা নেহাত কম না। অনেকে তো আবার জনসমক্ষে যুবকদের সাথে কোলাকুলি, ঘেঁষাঘেঁষি বা লজ্জাজনক অবস্থায় বসে থাকে বোরখা পরেই। এর চেয়ে জঘন্য কাজ অনেক নারী করে। জেনো, সেইটা কী? বোরখা পরেই হোলির দিন রঙ ছিটানোর উৎসব পালন করে। পুজোর দিন ঢোলের তালে তালে নৃত্য করে মুশরিকদের সাথে। বিজয় দশমীর নৌকায় চড়ে প্রতিমা বিসর্জন দেয়। কাফিরদের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় সেলফি উঠায়! এর চেয়ে লজ্জাজনক কাজ আর কি হতে পারে!
আচ্ছা, হিজাব কী নিতান্তই ফ্যাশন?
ঈমান-আকীদার সাথে হিজাবের কি কোনোই সম্পর্ক নেই?
হিজাব কি মুসলিম উম্মাহর জন্যে অবশ্যপালনীয় বিধান না?
আস্তে আস্তে এগুলোর উত্তর আমরা জানার চেষ্টা করব। তবে এর আগে জানব, 'হিজাব' বলতে মূলত কী বোঝায়। মাথা ঢাকার উপকরণের নামই কি হিজাব? নাকি হিজাবের বিধান অন্য কোনো কিছুকে নির্দেশ করে?
#পর্ব-১
Monday, 5 December 2022
যুবকরা বিয়ে করতে আগ্রহী
মুসলিম বিশ্বের খলিফা তখন উমর ইবনে আব্দিল আযিয রাহিমাহুল্লাহ। তিনি দেখলেন তার সমাজে অসংখ্য যুবকের এমন অবস্থা।
তিনি বায়তুল মালের তত্ত্বাবধায়ককে (আমাদের সময়ের অর্থমন্ত্রী) নির্দেশ দিলেন, "যুবকদেরকে ভাতা দাও। যারা বিয়ে করতে আগ্রহী, তাদের যতো অর্থ লাগে, সব অর্থ বায়তুলমাল থেকে দাও। এমনকি তাদের মোহরানাও।"
বায়তুল মালের তত্ত্বাবধায়ক খলিফার কথামতো যুবকদেরকে ভাতা দিলেন বিয়ে করার জন্য। খলিফার এমন উদ্যোগে অসংখ্য যুবক বিয়ে করে। তাদেরকে অর্থ দেবার পরও বায়তুল মালে অঢেল অর্থ থেকে যায়।
তথ্যসূত্র:
ড. রাগিব সারজানী, মুসলিম জাতি বিশ্বকে কী দিয়েছে, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬১।
পর্দা না করার শাস্তি সম্পর্কে হাদীস
#পর্দা না করার শাস্তি সম্পর্কিত হাদিস”
*************************************
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“দু’ শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামী হবেঃ-
১/ যারা গরুর লেজের মত একধার মোটা এবং একধার চিকন লাঠি দ্বারা মানুষকে মারধুর করবে,
২/ সেইসব নারী, যারা পোষাক পরার পরও উলংগ, অর্থাৎ যারা পাতলা টাইটফিট ছোটো খাটো পোশাক পরিধান করে বেপর্দা হয়ে শরির এবং তার উচু নিচু দেখিয়ে চলে, এবং যারা মাথায় উটের কুজের মত উচু করে চুলের খোপা বাধে, এবং যারা পর পুরুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে এবং নিজেরাও পর পুরুষের দিকে আকৃষ্ট হয়, তারা জান্নাতে যাবেনা এবং জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না, যা বহুদূর থেকে পাওয়া যায়।''
[সহীহ মুসলিম হাদিস ২১২৭,
মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৮৬৬৫]
.
(২)
রাসুল (সাঃ) বলেছেন,
“তিন শ্রেণীর মানুষের উপর জান্নাত হারাম অর্থাৎ এই তিন শ্রেণীর মানুষ কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
প্রথম শ্রেণী হলোঃ- যারা কোনো প্রকার নেশাদারদ্রব্য পান বা গ্রহণ করে।
দ্বিতীয় শ্রেণী হলোঃ- যে বা যারা পিতা-মাতার অবাধ্য, এই শ্রেণীভূক্ত মানুষরাও জান্নাতে
যাবে না।
তৃতীয় শ্রেণী হলোঃ- দাইউস।
অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি, যে তার পরিবারে পর্দা প্রথা চালু রাখেনি।
পরিবারের সদ্যসের মাঝে বেপর্দা ছিলো, বেহায়াপনা ছিলো, কিন্তু সে বাধা প্রদান করেনি।
পরিবারের কর্তা হিসেবে বেপর্দা-বেহায়াপনা বন্ধ না করার কারনে সে এই শাস্তি পাবে।”
(মুসনাদে আহমাদ ২/৬৯)
.
(৩)
আর সুগন্ধি আকর্ষণের এমন একটি মাধ্যম যা দৃষ্টি-অবনত ব্যাক্তিকেও আকৃষ্ট করে।
সুতরাং এ বিষয়ে কতটা সতর্ক থাকা দরকার তা নিজেরাই ভেবে দেখি।
হাদীসে এসেছে, ‘‘প্রত্যেক চোখ যিনা করে।
আর কোন নারী যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে কোন পুরুষের মজলিশের পাশ দিয়ে যায়,
তাহলে সে নারী নযরের যিনা বা সরাসরি যিনাকারি হিসেবে গণ্য হবে।”
(জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭৮৬)
.
(৪)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে মিলিত হলে, নিঃসন্দেহে তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।
(অর্থাৎ তখন শয়তান তাদের মনে কুমন্ত্রণা দেয়)।”
(জামে তিরমিযী হাদীস ১১৭১)
.
(৫)
রাসুল (সঃ) ইরশাদ করেন,
“খবরদার তোমরা বেগানা স্ত্রীলোকের ঘরে প্রবেশ করো না।
জনৈক সাহাবী জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সঃ), স্বামীর ভাইদের (অর্থাৎ ভাসুর, দেবর, বেয়াই ইত্যাদি) সম্পর্কে কি বলেন?
তখন রাসুল (সঃ) ইরশাদ করেন, তারা তো স্ত্রীর জন্য মৃত্যুর সমতুল্য। (তিরমিজিঃ ১/২২০)
অর্থাৎ মানুষ যেমন মৃত্যু থেকে বেচে থাকার চেষ্টা করে, ঠিক তেমনি দেবর ভাশুর বিয়াই ইত্যাদি থেকে বেচে থাকার চেষ্টা করতে হবে, নাহলে সে মরেই যাবে, অর্থাৎ সে বিপদে পড়বেই, তার সতিত্ব মান ইজ্জত সব হারিয়ে ফেলবে। যার বাস্তবতা সমাজের দিকে দৃষ্টি দিলেই দেখা যায়।
.
(৬)
উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা (রাঃ) বর্ণনা করেন, “আমি এবং মাইমুনা (রাঃ) রাসুল (সঃ) এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় অন্ধ সাহাবী ইবনে উম্মে মাখতুম (রাঃ) সেখানে আসতে লাগলেন। তখন রাসুল (সাঃ) বললেন, তোমরা তার থেকে পর্দা করো, আড়ালে চলে যাও। আমি বললাম ইয়া রাসুলুল্লাহ তিনি তো অন্ধ,
তিনি তো আমাদের দেখতে পাচ্ছেন না।
তখন রাসুল (সাঃ) বল্লেন, তোমরা তো অন্ধ নয়,?
তোমরা তো তাকে দেখতে পাচ্ছো।
(আবু দাউদ ২/৫৬৮) এই হাদিসের ব্যাপারে আলেমরা জয়ীফ বলেছেন।
তবে নারীরা প্রোয়োজনে পর পুরুষকে দেখতে পারে, কিন্তু পুরুষ দেখতে পারেনা। / সহীহ বোখারী /
.
(৭)
রাসুল (সঃ) বলেন, “নারী হল গোপনীয় জিনিস। অর্থাৎ তাকে পর পুরুষ থেকে ঢেকে রাখতে হয়, যখন সে ঘর থেকে বেপর্দা হয়ে বের হয়, তখন শয়তান তার দিকে দৃষ্টি উচু করে তাকায়। অর্থাৎ শয়তান তখন যিনা করার জন্য শুপারিস করে
(তিরমিযি ১/২২২)
.
(৮)
রাসুল (সঃ) বলেন, “আমার পরে নারী ফিতনা (পরীক্ষা) পুরুষদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ করবে।”
(বুখারি ও মুসলিম)
.
(৯)
ভ্রু প্লাক করা ও পরচুলা পরা হারাম!!
বর্তমান সময়ের ফ্যাশন, হে বোনেরা সাবধান, অনেকেই ভ্রু প্লাক করে থাকেন এবং নানা রঙের নানা ধরনের পরচুলাও ব্যাবহার করে থাকেন।
অথচ যারা এমন করেন, রাসুল (সাঃ) তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন।
কাজেই বোনেরা আল্লাহর ভয়ে এই ধরনের গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকুন।
* আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর অভিশাপ হোক সেই সব নারীদের উপর, যারা শরিরে উল্কি উৎকীর্ণ করে এবং যারা করায়, এবং অভিসাপ সেইসব নারীদের উপর, যারা ভ্রু চেঁছে সরু (প্লাক) করে, যারা সুন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।' জনৈক মহিলা এ ব্যাপারে তার (ইবনে মাসউদের) প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন, 'আমি কি তাকে অভিসপ্ত করব না, যাকে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) অভিসপ্ত করেছেন এবং তা আল্লাহর কিতাবে আছে?
আল্লাহ বলেছেন, "রাসুল যে বিধান তোমাদেরকে দিয়েছেন তা গ্রহন কর, আর যা থেকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাক।”
(সূরা হাশরঃ ৭)
* ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, “রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে মহিলা পরচুলা লাগিয়ে দেয় এবং যে পরচুলা লাগাতে বলে, আর যে মহিলা অঙ্গ প্রত্যঙ্গে উল্কি উৎকীর্ণ করে ও উল্কি উৎকীর্ণ করতে বলে, তাদেরকে অভিশাপ করেছেন।”
[সহীহ বুখারির ৫৫০৭ থেকে ৫৫২৪ নং হাদিস দেখুন] পরচুলা বলে তাকে, যা মাথায় অন্যের বা বারতি চুল লাগানো হয়।
.
(১০)
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “নারীরা হচ্ছে চাদর, এবং যদি সে ঘড়ের বাইরে যায়, তবে শয়তান খুশি হয় (তাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে বলে)।
সে (নারী) আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে না, যতটা সে ঘড়ে থেকে করতে পারতো।”
[ইবনে হিব্বান ও ইবনে আবী খুযাইমাহ, আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, সিলসিলা আস সহীহাহ ২৬৮৮]
এবং তিনি নবী (সাঃ) নারীদেরকে মসজিদে সালাত আদায়ের ব্যাপারে বলেছিলেন যে, “তাদের জন্য ঘড়ই উত্তম। / আবু দাউদ ৫৬৭ /
তবে নারীরা মসজিদে যেতে চাইলে রাসুল (সঃ) বাধা দিতে নিষেদ করেছেন।
.
(১১)
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আমি পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বড় আর কোন ফিতনাহ রেখে যাচ্ছিনা।
আর, বনী ইসরাইলের প্রথম ফিতনাই ছিলো নারী। সুতরাং লোকদের উচিত তাদের পরিবারকে ফিতনাহ এবং ফিতনাহর উপকরণ থেকে দুরে রাখা।”
[ফতোয়ায়ে আল-মার'আহ আল মুসলিমাহ ২/৯৮১]
.
(১২)
আবু হুরায়ররা (রাদিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "মহান আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি যে নারী ঈমান রাখে, তার মাহরামের সঙ্গ ছাড়া একাকিনী এক দিন এক রাতের দূরের পথে সফর করা বৈধ নয়।’’ (মাহরাম হচ্ছে তারা, যাদের সাথে চিরদনের জন্য বিবাহ হারাম, এবং যাদের সামনে পুরো শরির ঢেকে পর্দা করতে হয়না)
[সহীহ বুখারীঃ হাদীস ১০৮৮, সহীহ মুসলিমঃ ১৩৩৯, জামে তিরমিযীঃ হাদীস ১০৭০, সুনানে আবু দাউদঃ হাদীস ১৭২৩, ইবনে মাজাহঃ হাদীস ২৮৯৯, মুসনাদে আহমদঃ হাদীস ৭১৮১, ৭৩৬৬, ৮২৮৪, ৮৩৫৯, ৯১৮৫, ৯৩৭৪, ৯৮৪৮, ১০০২৯, ১০১৯৭, মুওয়াত্তা মালিকঃ হাদীস ১৮৩৩]
.
ফিক্বাহবিদদের সর্বসম্মত ঐকমত্য এই যে, যে কোন যুগে, টেকনোলজির পরম উৎকর্ষতার সময়েও এই দুরত্ব ৪৮ মাইল/৮০ বা ৮৩ কিলোমিটার।
এই একই দুরত্ব অতিক্রম করার পরে একজন মুসাফির হিসেবে গন্য হবেন।
পর্দা না করার সাস্তি।
""""""/ বিস্তারিত উপরে /"""""""
Sunday, 4 December 2022
আমার কাজে লাগে এমন কিছু কুরআনে আছে কি?
প্রশ্নঃ আমার কাজে লাগে এমন কিছু কুরআনে আছে কি? ব
উত্তরঃ কুরআন সম্পর্কে একটি প্রচলিত ধারণা হলো: এটি একটি উচ্চমার্গের ধর্মীয়, নৈতিক, ঐতিহাসিক বই,যা-তে বড় বড় জটিল ব্যাপারগুলোই শুধু বলা আছে।দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে এমন সাধারণ ব্যাপারগুলোর জন্য কুরআন নয়। যেমন আমরা কীভাবে কথা বলব, কীভাবে বেড়াতে যাব__ খুঁটিনাটি সাধারণ দৈনন্দিন ব্যাপারের জন্য কুরআন নয়।
আসলেই কি তা-ই?
দেখা যাক আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীন নিজে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলা জন্য কত কিছু শিখিয়েছেন—
➡️ কথা বলা 🗣️
▫️মানুষের সাথে কথা বলার সময় ভদ্র,মার্জিতভাবে উত্তম কথা বলা।।২:৮৩।
▫️সত্য কথা বলবে। ভণিতা না করে, ধোঁকা না দিয়ে স্পষ্ট বলবে।। ৩৩:৭০।
▫️ চিৎকার করবে না। কর্কশভাবে কথা বলবে না, নম্রভাবে নিচু স্বরে কথা বলবে।। ৩১:১৯।
▫️ ফালতু কথা বলবে না এবং অন্যের ফালতু কথা শুনবে না। যারা ফালতু কথা বলে, অপ্রয়োজনীয় কাজ করে সময় নষ্ট করে, তাদের কাছ থেকে সরে যাবে।। ২৩:৩, ২৮:৫৫।
▫️ সত্যি মনোভাবটা মুখে প্রকাশ করবে। মনে এক, মুখে উল্টো কথা বলবে না।। ৩:১৬৭।
▫️ কাউকে নিয়ে উপহাস, টিটকারি ব্যঙ্গ করবে না।। ৪৯:১১।
▫️ কাউকে কোনো বাজে নামে ডাকবে না।। ৪৯:১১।
▫️ অন্যকে নিন্দা করবে না,কারও মানহানি করবে না।। ৪৯:১১।
▫️ কারও অনুপস্থিতিতে তার নামে কোনো বাজে কথা বলবে না।। ৪৯:১২।
▫️ অন্যকে কিছু সংশোধন করতে বলার আগে অবশ্যই তা নিজে মানবে। কথার চেয়ে কাজের প্রভাব বেশি।। ২:৪৪।
▫️ মিথ্যা কথা বলবে না।। ২২:৩০।
▫️ মানুষকে বিচক্ষণভাবে, মার্জিত কথা বলে আল্লাহর পথে ডাকবে। তাদের সাথে অত্যন্ত ভদ্র, শালীনভাবে যুক্তি-তর্ক করবে।। ১৬:১২৫।
▫️ যদি কোনো ব্যাপারে তোমার সঠিক জ্ঞান না থাকে, তাহলে সে ব্যাপারে মুখ বন্ধ রাখো। তোমার মনে হতে পারে, এসব সামান্য ব্যাপারে সঠিকভাবে না জেনে কথা বললে অত সমস্যা নেই, কিন্তু তুমি জানো না, সেটা হয়তো আল্লাহর কাছে কোনো ভয়ংকর ব্যাপার।। ২৪:১৪–১৬।
সংগৃহীতঃ পড়-১ (ওমর আল জাবীর)
✍️ সাঈদ কায়েছ।





